গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ ২৪ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তাঁর লিখিত পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতির এই ঐতিহাসিক পদত্যাগপত্র জমাদান ও পরবর্তী সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তদারকি ও সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন জাতীয় সংসদের প্রভাবশালী চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি। মূলত তাঁরই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ক্রান্তিকালে সরকারের আইনি ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে।
অসুস্থতার কারণ ও সাংবিধানিক শূন্যতারাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে 'অটোনমিক নিউরোপ্যাথি' (Autonomic Neuropathy) নামক স্নায়বিক রোগে ভুগছেন। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝে মাঝেই তিনি সাময়িকভাবে সংজ্ঞাহীন বা অচেতন হয়ে পড়েন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, "গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাংবিধানিক এই সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না"।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘ সময় এই পদে বহাল ছিলেন।
সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর এই পদে থাকার কথা থাকলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ ও ক্ষমতার কেন্দ্রে চিফ হুইপবাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন, তবে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। স্পিকারের দেশে ফেরার পর থেকে পুরো রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি নিজেই স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের আইনি দিকগুলো চূড়ান্ত করেন এবং পুরো সংসদ সচিবালয়কে নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেন।পদত্যাগপত্র গ্রহণ শেষে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি এবং স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই ক্রান্তিলগ্নে সংসদের প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রমে যেন বিন্দুমাত্র স্থবিরতা না আসে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং এই পুরো অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনি প্রক্রিয়াটিও চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।